একজন বিসিএস ক্যাডারের প্রেমকাহিনী

‘Early Riser’ বলতে যা বোঝায় আমি আসলে তা ছিলাম না।
আগে ফাইন্যাল পরীক্ষার সময় ও ঠিক পরীক্ষায় যাবার আগে ঘুম থেকে উঠতাম।

এখন? কাকডাকা ভোরে ঘুম ভাঙ্গে।
এখন ঘুম থেকে উঠি প্রেমের টানে।তবে তা নারীঘটিত প্রেমের টান নয়;জীবনের টানে,ক্যারিয়ারের টানে।তবে হ্যা, এই প্রেমের শিকড় একজন নারীর জন্যই।
গল্পের শুরুটা ভার্সিটির প্রথম বর্ষের ২য় সেমিষ্টারে থাকাকালীন।
সেদিন ছিলো শনিবার,সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে ভীড় অন্যান্যদিনের তুলনায় অনেক কম ছিলো বলা যায়।
লাইব্রেরী ছিলো অনেকটা ফাকা,সময়টা ছিলো সন্ধ্যা।
হঠাৎ বজ্রপাত শুরু।বজ্রপাতের শব্দে আমি যা ভয় পাইছি মনে হচ্ছিলো মধ্যরাতে একটা ভূতুরে বাড়িতে বসে আছি।
তখন অনেক দূরে বসা একটা মেয়ে,বইপত্র নিয়ে আমার পাশে এসে বসতে বসতে বলছে “এখানে বসতে পারি?”
হাসিমুখে অনুমতি (!) দিলাম।

বজ্রপাতের শব্দ আর প্রকট হওয়া শুরু হল।
একসময় ‘ভয়’ কাটাতে বইপত্র গুছিয়ে মেয়েটির সাথে পরিচিত হলাম,খোশ গল্প শুরু।
সে রাতে বৃষ্টি থামতে অনেক দেরী হলো(রাত প্রায় ১০ টা)।
প্রমি (মেয়েটার নাম) একা একা কুয়েত মৈত্রী হলে যেতে ভয় পাচ্ছিলো/
প্রথমদিনের পরিচয়ে তাকে হল পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলাম।
তার উপকার (!) করার সুযোগ ঐ একদিনই পেয়েছিলাম। তারপর আর একসাথে থাকা অবস্থায় কোনোদিন বজ্রপাত হয়নি,ও ভয়ও পায়নি।

একদিনে ওর উপকার করার সুবাধে গত ৭ বছর ধরে প্রতিদিনই ও আমার উপকার করে যাচ্ছে।
একসময় ঘুম ভাঙ্গতো ওর মিষ্টি কন্ঠ শুনে। এখনও যদি বলি তুমি প্রতিদিন ফোন দিয়ে আমারঘুম ভাঙ্গাবে,ও তা করবে।

কিন্ত,ও আমাকে আর সবার মত ওর প্রতি প্রেম-ভালোবাসায় আসক্ত করেনি।
ও আমাকে শিখিয়েছে ‘বাস্তববাদী’ হতে।
যদি কোনোদিন ও থাকেনা,সেদিন যেনো ওর শেখানো অভ্যাসগুলো আকড়ে ধরে ‘আসল প্রেমের’ সন্ধান পাই।

ও আমাকে কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠতে শিখিয়েছে।
আমরা ‘ডেট’ করতাম লাইব্রেরিতে।
কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়া বলতে কিছু আমাদের ছিলোনা।
একসাথে লাঞ্চ করতাম ‘হাকিমের খিচুরি’ দিয়ে।
আমাদের ‘প্রেম-ভালোবাসাটা’ যে স্বার্থক তা ‘না পাওয়ার’ মাপকাঠির চেয়ে পবিত্রতার মাপকাঠি দিয়ে পরিমাপ করে আমরা শান্তি পাই।

৩৫ তম বিসিএস এ গেজেটভূক্ত হওয়ার ট্রিটটা আজ প্রমি আর তার স্বামীকে দিয়ে আসলাম।
আজ আমার প্রেম সফল।
আজ আমাদের জুটি সফল। সেদিন যদি ও আমাকে মিথ্যে স্ব্প্ন দেখিয়ে ওর প্রতি প্রলুব্ধ করতো তবে আজ হয়তো প্রেমের এই স্বন্ধীক্ষণ দেখতে পারতাম না,৩ বছর আগেই বিরহে হারিয়ে যেতাম।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *