প্রিয় মাশরাফির কিছু জানা অজানা তথ্য জেনে নিন

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন স্বর্ণ যুগ চলছে বলা যায়। ট্যালেন্টের অভাব কোন কালেই ছিলোনা বাংলাদেশ দলে, কিন্তু দরকার ছিলো নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস এর। এই বিশ্বাস যে মানুষটি যুগিয়েছেন তার নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা। খুব সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রিয় মানুষ, ভালোবাসার মানুষ। যার জন্য বাংলাদেশের পতাকা সারা পৃথিবীতে উড়ছে অন্য উচ্চতায়।

প্রিয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে কিছু জানা অজানা তথ্যঃ

১। আর্লি এইজে মাশরাফি ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন অনেক পছন্দ করতেন। সাঁতার কাটা ও মোটর সাইকেল চালানো ক্যাপ্টেন ম্যাশ এর খুবই পছন্দের কাজ। মজার ব্যপার হচ্ছে মাশরাফি আগে বোলিং এর চেয়ে ব্যাটিং বেশি পছন্দ করতেন।

২। কিভাবে জাতীয় দলে এলেন মাশরাফি? প্রথমে মাশরাফি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলিং গ্রেট অ্যান্ডি রবার্টস এর বোলিং ক্যাম্পে আসেন, যিনি সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশের বোলিং কোচ ছিলেন। মাশরাফির পেস ও অ্যাগ্রেশানে অ্যান্ডি রবার্টস অবাক হন এবং খুবই পছন্দ করেন। তিনি মাশরাফি কে বাংলাদেশ এ টিমের জন্য রেকমেন্ড করেন। বাংলাদেশ এ টিমে সিলেক্টেড হওয়ার পর সেই টিম ইন্ডিয়া সফর করে সেই সময়। ৪ ম্যাচে মাশরাফি ৮ উইকেট নেন অ্যাগ্রেসিভ বোলিং করে, যা সবাইকে বিমোহিত করে। এরপরেই ডাক পান জাতীয় দলের জন্য।

৩। ন্যাশনাল টিমে অভিষেক। বাংলাদেশ এ দলের জন্য খেলার মাঝেই ডাক পাওয়া তরুন মাশরাফির অভিষেক হয় সেই সময়ের জিম্বাবুয়ে এর বিরুদ্ধে। বলে রাখা ভালো, তখনকার ফ্লাওয়ার ব্রাদার্স, হিথ স্টিক এর জিম্বাবুয়ে আজকের মত ছিলোনা। অনেক পাওয়ারফুল এবং বিপদজনক দল ছিলো। অ্যাগ্রেসিভ মাশরাফির স্পেল 8.2-3-26-2 সেই সময় সবাইকে ইম্প্রেস করেছিলো খুব।

প্রিয় মাশরাফির কিছু জানা অজানা তথ্য জেনে নিন

৪। মাশরাফি ও ইঞ্জুরী যেন একই সাথে একই সুতোয় গাঁথা। এত ইঞ্জুরীর পরেও বার বার ফিরে এসেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। টেস্ট অভিষেকের পর ৪ ম্যাচ খেলেই ২০০২ সালে প্রথম ইঞ্জুরীতে পড়েন মাশরাফি। সেটা ছিলো ব্যাকের ইঞ্জুরী, সেটা থেকে যখন রিকভার করছিলেন তখন হাঁটুর ইঞ্জুরীতে পড়েন। এই ইঞ্জুরীর ফলে মাশরাফি ৮ মাসের জন্য দল থেকে ছিটকে পড়েন। প্রথম ৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাশরাফি মাত্র ১২ টি টেস্ট খেলতে পারেন এই ইঞ্জুরীর জন্য। মাশরাফি হাঁটুতে, গোয়ালীতে, পায়ের ইঞ্জুরীতে পড়েন এবং সার্জারি করাতে হয়েছিলো বার বার।

৫। ২০০৪ সালে ইন্ডিয়ার সাথে মাশরাফি করেন একটি ড্রিম স্পেল। শেবাগকে বোল্ড করার দৃশ্য এখনো কোটি বাংলাদেশের স্মৃতিতে জল জল করছে। ব্যাট হাতে করেছিলেন ৩১ রান, সেটি বাংলাদেশের প্রথম জয় ইন্ডিয়ার সাথে। সেই ম্যাচে মাশ হয়েছিলেন ম্যান অব দি ম্যাচ। ২০০৭ এ বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে আবার হারায় বিশ্বকাপে। সেবারও মাশরাফি বিন মর্জুতা ধসিয়ে দেন শক্তিশালি ইন্ডিয়ান ব্যাটিং লাইন আপ। ২০০৯ সালে মাশরাফি বাংলাদেশের ভাইস ক্যাপ্টেন নিযুক্ত হন।

প্রিয় মাশরাফির কিছু জানা অজানা তথ্য জেনে নিন

৬। মাশরাফির ক্যাপ্টেন্সীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায় বাংলাদেশ দল। সেবারই প্রথম বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয় করে। যদিও ইঞ্জুরীতে পড়ে আবারো দলের বাহিরে চলে যান মাশরাফি। তারপর সাকিব আল আসান নিযুক্ত হন বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন হিসেবে।

৭। এত ইঞ্জুরীর পরও বার বার ক্রিকেটে ফিরেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। টেস্ট ক্রিকেটে যদিও আর ফেরা হয়নি কিন্তু লিমিটেড ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি।

৮। মাশরাফি একজন বোলিং অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের টেইল এন্ডে একজন অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ব্যাটিং করে একবার জিতিয়েছিলেন নিজের দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে।

প্রিয় মাশরাফির কিছু জানা অজানা তথ্য জেনে নিন

৯। নিক নেইম, বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্য রকম এক ভালোবাসার নাম মাশরাফি বিন মর্জুতা। বাংলাদেশে মাশরাফি ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত।

১০। Rise Of Bangladesh, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ এর পর থেকে ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে অন্য রকম এক বাংলাদেশকে। মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিলো, বিশ্বকাপের পর ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এবং সাউথআফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জেতে। বিশ্বাস ও অ্যাটিচিউডে পরিবর্তিত এক অন্যরকম বাংলাদেশকে দেখে সারা পৃথিবী আজো। ভয়হীন এক দল টাইগার দেখেছে পৃথিবী। দেখেছে মাশরাফি বাহিনীর গর্জন। এসবের পেছনে যে মানুষের সবচেয়ে বেশি অবদান, তিনি হলেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি ; সবার প্রিয় মাশরাফি।

About pressroom1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow